কেন্দুয়া প্রতিনিধি : নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা সদরে অবস্থিত নারী শিক্ষার উন্নয়নে একমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৮৩ সালে কেন্দুয়া নেত্রকোনা সড়কের পাশে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত। নারী শিক্ষার উন্নয়নে এই বিদ্যালয়টি যথেষ্ট অবদান রাখলেও একাডেমিক ভবন স্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণ কার্যক্রম করতে হচ্ছে অনেক কষ্টের সাথে। ফলে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে তাল মিলিয়ে মাথা উঁচু করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারছেনা এই প্রতিষ্ঠানটি।
এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৫শ। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৩শ ছাত্রী থাকায় ৩টি সেকশন করা হয়েছে। সপ্তম শ্রেণিতে ২টি, অষ্টম শ্রেণিতে ২টি নবম শ্রেণিতে ২টি ও ১০ম শ্রেণিতে ২টি সেকশন খোলা হয়েছে। মানবিক ব্যাবসায় শিক্ষা এবং বিজ্ঞান শাখায় এসব ছাত্রীরা অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে গত বছর ২শ ৭৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরিক্ষায় অংশ নিয়ে ৩৬ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল। প্রধান শিক্ষক সহ ২৩ জন শিক্ষক শিক্ষিকা শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে নিবির ভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য পুরোদমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বিদ্যালয়টিতে একাডেমিক ভবন স্বল্পতার কারণে ছাত্রীরা খোলামেলা ভাবে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে বসে পাঠদান গ্রহণ করতে পারছে না।
এক ছাত্রী অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা সদরের নারী শিক্ষা উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩ তালা বিশিষ্ট পাকা ভবন রয়েছে। এমনকি দেখাগেছে একটি বিদ্যালয়ে একাধিক পাকা ভবন নির্মান করা হয়েছে। অথচ সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট একটি পাকা একাডেমিক ভবন নির্মিত হলেই সময়ের সব চাহিদা মিটে যাবে। সহ পাঠ্যক্রম মেধা অন্বেষনসহ জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ কার্যক্রমে বিভাগী পর্যায়ে এই বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা অংশগ্রহন করে সুনাম অর্জন করে আসছে। কিন্তু নেই তাদের পাঠ গ্রহণের সুষ্ঠু পরিবেশ। সংগীত শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় সরকারি ভাবে খন্ডকালিন শিক্ষক নিয়োগ করলেও এই বিদ্যালয়টিতে সংগীত শিক্ষকের জন্য কোন অর্থ বরাদ্দ নেই। শিক্ষার উন্নয়নে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একাডেমিক ভবন উন্নয়ন। একটি একাডেমিক ভবনের দাবীতেই সোচ্ছার ছাত্রী অভিভাবক, সুধিজন ও শিক্ষক মন্ডলী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মুখলেছুর রহমান বাঙ্গালী জানান, আমরা ছাত্রীদেরকে স্কুলগামী করতে শিক্ষকরা খুব আন্তরিক ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু একাডেমিক ভবন স্বল্পতার কারণে জরাজির্ণ টিনসেড ঘরেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। সে ক্ষেত্রে আমাদেরও কষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থীদেরও কষ্ট হচ্চে। আমরা সরকারের নিকট ওই বিদ্যালয়ের জন্য ৪/৫ তলা বিশিষ্ট একটি একাডেমিক ভবন নির্মান করে দেয়ার জন্য বিন¤্র আহবান জানাচ্ছি।
(এসবি/এসপি/জুন ০১, ২০২২) সোর্স লিংক: https://m.u71news.com/article/209374/index.html

Post a Comment